ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স অন্যতম সফল ও ধারাবাহিক দল। ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ জিতেছে—এই প্রশ্নের উত্তর হলো, ফরাসি জাতীয় দল এখন পর্যন্ত ২ বার ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে। প্রথমবার তারা ঘরের মাঠে ১৯৯৮ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালে রাশিয়ায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ছিল ফরাসি ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক। জিনেদিন জিদান, থিয়েরি অঁরি, দিদিয়ের দেশম, মার্সেল দেসাইয়ি ও লিলিয়ান থুরামের মতো তারকায় সাজানো দলটি ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয় করে। ২০ বছর পর কিলিয়ান এমবাপ্পে, আঁতোয়ান গ্রিজমান, পল পগবা ও অলিভিয়ে জিরুর প্রজন্ম ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বার ট্রফি ঘরে তোলে।
তবে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ইতিহাস শুধু দুটি শিরোপায় সীমাবদ্ধ নয়। ২০০৬ ও ২০২২ সালে তারা ফাইনালে উঠেও রানার্সআপ হয়েছে। ১৯৫৮ ও ১৯৮৬ সালে তৃতীয় এবং ১৯৮২ ও ২০২৬ সালে চতুর্থ হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে পরাজিত হয়ে ফ্রান্স চতুর্থ অবস্থানে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
এই প্রতিবেদনে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস, ফাইনালে ওঠার সংখ্যা, মোট অংশগ্রহণ, প্রতিটি আসরে পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ জিতেছে
ফ্রান্স এখন পর্যন্ত ২ বার ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে। তাদের বিশ্বকাপ শিরোপা এসেছে ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে। এই দুই জয়ের মধ্যে ব্যবধান ছিল ঠিক ২০ বছর। ফিফা -এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের বিশ্বকাপে সেরা ফলাফল হলো ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ শিরোপা
| বছর | আয়োজক দেশ | ফাইনালের প্রতিপক্ষ | ফলাফল | ফ্রান্সের অবস্থান |
|---|---|---|---|---|
| ১৯৯৮ | ফ্রান্স | ব্রাজিল | ৩-০ | 🏆 চ্যাম্পিয়ন |
| ২০১৮ | রাশিয়া | ক্রোয়েশিয়া | ৪-২ | 🏆 চ্যাম্পিয়ন |
১৯৯৮ বিশ্বকাপ: প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফ্রান্সের মাটিতে। ফলে ঘরের দর্শকদের সামনে শিরোপা জয়ের সুযোগ ছিল স্বাগতিক দলের।
ফ্রান্স গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব ও ডেনমার্কের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে। এরপর নকআউট পর্বে প্যারাগুয়ে, ইতালি ও ক্রোয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ফাইনালে ওঠে।
ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ব্রাজিল। সেই ম্যাচে জিনেদিন জিদান প্রথমার্ধেই দুটি গোল করেন। পরে এমানুয়েল পেতিত আরও একটি গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স ৩-০ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জেতে।
এই জয় ফরাসি ফুটবলের জন্য নতুন যুগের সূচনা করে। অধিনায়ক দিদিয়ের দেশমের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠে। দুই দশক পর দেশম কোচ হিসেবে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস তৈরি করেন।
২০১৮ বিশ্বকাপ: ২০ বছর পর দ্বিতীয় শিরোপা
১৯৯৮ সালের পর ফ্রান্সকে আবার বিশ্বকাপ জিততে অপেক্ষা করতে হয় ২০ বছর। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দিদিয়ের দেশমের নেতৃত্বাধীন কোচিং দল শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে তখন তরুণ তারকা হিসেবে বিশ্ব ফুটবলে নিজের পরিচয় তৈরি করেন। গ্রিজমান, পগবা, এনগোলো কান্তে, ভারান, জিরু ও এমবাপ্পের সমন্বয়ে ফ্রান্স ছিল অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ।
ফাইনালে ফ্রান্সের সামনে ছিল ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতে ফ্রান্স দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। এমবাপ্পে ফাইনালে গোল করে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা অন্যতম কমবয়সী খেলোয়াড়দের একজন হন।
ফ্রান্সের ২০১৮ সালের শিরোপার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাদের কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন এবং কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে আবারও বিশ্বকাপ জেতেন।
২০২৬ সালের পর ফ্রান্সের অবস্থান
২০২৬ বিশ্বকাপের পরও ফ্রান্সের বিশ্বকাপ শিরোপার সংখ্যা ২টি রয়েছে। ২০২৬ সালে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে পরাজিত হয়ে চতুর্থ হয়।
অর্থাৎ, ২০২৬ সালে ফ্রান্স নতুন কোনো বিশ্বকাপ ট্রফি যোগ করতে পারেনি।
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দলটি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছে। ১৯৫৮ সালে জাস্ট ফঁতেনের অসাধারণ গোলস্কোরিং, ১৯৮০-এর দশকে মিশেল প্লাতিনির প্রভাব এবং ১৯৯৮ সালের জিদান প্রজন্ম ফরাসি ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ফিফা-এর রেকর্ড অনুযায়ী, জাস্ট ফঁতেন ১৯৫৮ সালের এক আসরে ১৩ গোল করেছিলেন, যা এখনো একটি বিশ্বকাপে এক খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
ফ্রান্সের উল্লেখযোগ্য বিশ্বকাপ ফলাফলগুলো হলো:
- ১৯৫৮: তৃতীয় স্থান
- ১৯৮২: চতুর্থ স্থান
- ১৯৮৬: তৃতীয় স্থান
- ১৯৯৮: চ্যাম্পিয়ন
- ২০০৬: রানার্সআপ
- ২০১৮: চ্যাম্পিয়ন
- ২০২২: রানার্সআপ
- ২০২৬: চতুর্থ স্থান
এখান থেকে বোঝা যায়, ফ্রান্স শুধু শিরোপা জেতার ক্ষেত্রেই সফল নয়; দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকাপের শেষ ধাপেও তারা নিয়মিত উপস্থিত থেকেছে।
ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে
ফ্রান্স মোট ৪ বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে। এর মধ্যে তারা ২ বার চ্যাম্পিয়ন এবং ২ বার রানার্সআপ হয়েছে। ফাইনাল খেলা চারটি বছর হলো ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২।
| বছর | প্রতিপক্ষ | ফলাফল | ফ্রান্সের ফল |
|---|---|---|---|
| ১৯৯৮ | ব্রাজিল | ৩-০ | 🏆 চ্যাম্পিয়ন |
| ২০০৬ | ইতালি | ১-১, পেনাল্টিতে ৩-৫ | 🥈 রানার্সআপ |
| ২০১৮ | ক্রোয়েশিয়া | ৪-২ | 🏆 চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২২ | আর্জেন্টিনা | ৩-৩, পেনাল্টিতে ২-৪ | 🥈 রানার্সআপ |
১৯৯৮ সালের ফাইনাল
১৯৯৮ সালের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্যারিসের স্তাদ দ্য ফ্রান্সে। ব্রাজিল ছিল সেই সময়ের অন্যতম বড় ফেভারিট। কিন্তু ফ্রান্স শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
জিদানের দুটি হেড এবং পেতিতের শেষ মুহূর্তের গোল ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। এটি ছিল ফ্রান্সের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল জয়।
২০০৬ সালের ফাইনাল
২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ছিল ইতালি। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে যায়।
ফ্রান্স পেনাল্টিতে ৩-৫ ব্যবধানে হেরে যায়। ম্যাচটির অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা ছিল জিনেদিন জিদান ও মার্কো মাতেরাজ্জির ঘটনা, যার পর জিদান লাল কার্ড দেখেন।
ফলে ফ্রান্স দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেও শিরোপা জিততে পারেনি।
২০১৮ সালের ফাইনাল
২০১৮ সালে ফ্রান্স আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে। এবার তাদের সামনে ছিল ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতে ফ্রান্স ২০ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে।
এটি ছিল দিদিয়ের দেশমের জন্য বিশেষ অর্জন। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ী হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় তিনি বিশেষ অবস্থান তৈরি করেন।
২০২২ সালের ফাইনাল
কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচগুলোর একটি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় শেষে ৩-৩ গোলে শেষ হয়।
পেনাল্টি শুটআউটে আর্জেন্টিনা ৪-২ ব্যবধানে জয় পায়। ফলে ফ্রান্স টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেও রানার্সআপ হয়।
কিলিয়ান এমবাপ্পে সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন এবং গোল্ডেন বুট জেতেন।
২০২৬ সালে কেন ফ্রান্স ফাইনালে উঠতে পারেনি?
২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ জিতে গ্রুপের শীর্ষে শেষ করে। এরপর নকআউট পর্বে সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যায়।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফ্রান্স ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে তারা চতুর্থ হয়।
ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ খেলেছে
২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফ্রান্স মোট ১৭ বার ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে। তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ছিল ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। ২০২৬ সালের আসর ছিল তাদের ১৭তম অংশগ্রহণ।
ফ্রান্স যে বছরগুলোতে বিশ্বকাপ খেলেছে:
১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬৬, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬।
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের তালিকা
| বিশ্বকাপ | ফলাফল |
|---|---|
| ১৯৩০ | গ্রুপ পর্ব |
| ১৯৩৪ | শেষ ১৬ |
| ১৯৩৮ | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ১৯৫৪ | গ্রুপ পর্ব |
| ১৯৫৮ | তৃতীয় স্থান |
| ১৯৬৬ | গ্রুপ পর্ব |
| ১৯৭৮ | গ্রুপ পর্ব |
| ১৯৮২ | চতুর্থ স্থান |
| ১৯৮৬ | তৃতীয় স্থান |
| ১৯৯৮ | 🏆 চ্যাম্পিয়ন |
| ২০০২ | গ্রুপ পর্ব |
| ২০০৬ | রানার্সআপ |
| ২০১০ | গ্রুপ পর্ব |
| ২০১৪ | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ২০১৮ | 🏆 চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২২ | রানার্সআপ |
| ২০২৬ | চতুর্থ স্থান |
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ইতিহাসকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুগে ভাগ করা যায়। প্রতিটি যুগেই আলাদা কোনো তারকা বা প্রজন্ম দলটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১৯৫৮: জাস্ট ফঁতেনের রেকর্ড
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্স তৃতীয় হয়। ওই আসরে জাস্ট ফঁতেন অসাধারণ গোলস্কোরিং করেন।
তিনি মাত্র একটি বিশ্বকাপে ১৩ গোল করেন। FIFA-এর তথ্য অনুযায়ী, এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার এই রেকর্ড এখনো অক্ষত রয়েছে।
১৯৮২ ও ১৯৮৬: প্লাতিনি যুগ
১৯৮০-এর দশকে মিশেল প্লাতিনি ছিলেন ফ্রান্সের অন্যতম প্রধান তারকা। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স চতুর্থ এবং ১৯৮৬ সালে তৃতীয় হয়।
এই সময়ে ফ্রান্স ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে।
১৯৯৮: প্রথম বিশ্বকাপ জয়
১৯৯৮ সালে জিদান ও দেশমদের প্রজন্ম ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেয়। এটি ছিল তাদের ফুটবল ইতিহাসের বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত।
২০০৬: আবার ফাইনালে
জিদানের নেতৃত্বে ফ্রান্স ২০০৬ সালে ফাইনালে ওঠে। কিন্তু ইতালির কাছে পেনাল্টিতে হেরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে।
২০১৮: দ্বিতীয় বিশ্বকাপ
২০১৮ সালে ফ্রান্স আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে তৈরি দলটি ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ট্রফি জেতে।
২০২২: শিরোপা ধরে রাখার কাছাকাছি
২০২২ সালে ফ্রান্স টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে পেনাল্টিতে হারার কারণে তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।
২০২৬: সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাত্রা
২০২৬ সালে ফ্রান্স আবারও শেষ চার নিশ্চিত করে। গ্রুপ পর্বে তারা তিনটি ম্যাচেই জয় পায় এবং নকআউট পর্বে সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোকে হারায়। এরপর সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যায়।
বিশেষ তথ্য: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন। তিনি টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা খেলোয়াড় হিসেবে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন।
ফ্রান্সের বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সারসংক্ষেপ এক নজরে দেখলে দলটির সাফল্যের মাত্রা সহজেই বোঝা যায়।
| পরিসংখ্যান | সংখ্যা |
|---|---|
| বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ | ১৭ বার |
| বিশ্বকাপ শিরোপা | ২টি |
| ফাইনাল খেলা | ৪ বার |
| রানার্সআপ | ২ বার |
| তৃতীয় স্থান | ২ বার |
| চতুর্থ স্থান | ২ বার |
| প্রথম বিশ্বকাপ | ১৯৩০ |
| প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা | ১৯৯৮ |
| দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা | ২০১৮ |
| সর্বশেষ বিশ্বকাপ | ২০২৬ |
| ২০২৬ সালের ফলাফল | চতুর্থ |
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে কী ছিল?
ফ্রান্সের দুই বিশ্বকাপ জয় বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় বারবার সামনে আসে। শুধু তারকা খেলোয়াড় থাকা নয়, দলীয় ভারসাম্যও তাদের সাফল্যের বড় কারণ।
১. শক্তিশালী যুব উন্নয়ন ব্যবস্থা
ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে তরুণ ফুটবলার তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দলে নতুন প্রতিভা যুক্ত হয়েছে।
২. অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়
১৯৯৮ সালে জিদানের মতো তারকার সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা ছিলেন। ২০১৮ সালে আবার এমবাপ্পের মতো তরুণ প্রতিভার সঙ্গে গ্রিজমান ও কান্তের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিলেন।
৩. শক্তিশালী রক্ষণভাগ
বিশ্বকাপ জয়ের দলগুলোতে সাধারণত রক্ষণভাগের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ হয়। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোতেও রাফায়েল ভারান, স্যামুয়েল উমতিতি, বেঞ্জামিন পাভার ও অন্যান্য রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
৪. দ্রুত আক্রমণ
ফ্রান্সের অন্যতম বড় শক্তি হলো দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। এমবাপ্পের গতি এবং গ্রিজমানের সৃজনশীলতা ২০১৮ সালে এই কৌশলকে আরও কার্যকর করেছিল।
৫. বড় ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা
বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় চাপ সামলানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স বারবার নকআউট পর্বে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে।
ফুটবলের সর্বশেষ তথ্য জানতে ভিজিট করুন ফুটবল ক্যাটাগরি
ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ জিতেছে — FAQ
ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ জিতেছে?
ফ্রান্স এখন পর্যন্ত ২ বার বিশ্বকাপ জিতেছে। তারা ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
ফ্রান্স প্রথম বিশ্বকাপ কবে জিতেছিল?
ফ্রান্স প্রথমবার ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে। সেই আসরের ফাইনালে তারা ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারায়।
ফ্রান্স দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ কবে জিতেছিল?
ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে। ফাইনালে তারা ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে।
ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে?
ফ্রান্স ৪ বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে—১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২ সালে। এর মধ্যে দুইবার তারা চ্যাম্পিয়ন এবং দুইবার রানার্সআপ হয়েছে।
ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ খেলেছে?
২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফ্রান্স ১৭ বার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে। তাদের প্রথম অংশগ্রহণ ছিল ১৯৩০ সালে এবং সর্বশেষ অংশগ্রহণ ২০২৬ সালে।
উপসংহার
ফ্রান্স কতবার বিশ্বকাপ জিতেছে—এর সরাসরি উত্তর হলো ২ বার। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে। এরপর ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
তবে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ইতিহাস শুধু দুটি ট্রফির গল্প নয়। ২০০৬ ও ২০২২ সালে ফাইনালে উঠে তারা রানার্সআপ হয়েছে। ১৯৫৮ ও ১৯৮৬ সালে তৃতীয় হওয়ার পাশাপাশি ১৯৮২ ও ২০২৬ সালে চতুর্থ হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে ফ্রান্স ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী দলগুলোর একটি।
২০২৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্স সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে। যদিও স্পেনের কাছে হেরে ফাইনালে যেতে পারেনি এবং পরে ইংল্যান্ডের কাছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পরাজিত হয়েছে, তবুও তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২টি বিশ্বকাপ শিরোপা, ৪টি ফাইনাল এবং ১৭টি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ ফ্রান্সকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল ও ধারাবাহিক জাতীয় দলে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে এমবাপ্পে ও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের হাত ধরে ফ্রান্স তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারে কি না, সেটিই এখন ফরাসি ফুটবলপ্রেমীদের বড় আগ্রহের বিষয়।