২০২৬ সাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য একটি ঘটনাবহুল বছর — এই বছরেই হয়েছে আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চলেছে একাধিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে বছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন শুবমান গিল, জো রুট, ড্যারিল মিচেল, বিরাট কোহলির মতো তারকারা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের তানজিদ হাসান ও তৌহিদ হৃদয়ের মতো তরুণ ব্যাটাররাও নিয়মিত রান করে আলোচনায় এসেছেন। এই ধারাবাহিক রান সংগ্রহই ২০২৬ সালের ব্যাটিং পরিসংখ্যানকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
২০২৬ সালে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকা
(তথ্যসূত্র: ESPNcricinfo রেকর্ডস, ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ)
| অবস্থান | খেলোয়াড় | দেশ | ম্যাচ | ইনিংস | রান | সর্বোচ্চ স্কোর | গড় | স্ট্রাইক রেট | সেঞ্চুরি | হাফ-সেঞ্চুরি |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | শুবমান গিল | ভারত | ৯ | ৮ | ৫৬১ | ১৫৪ | ৯৩.৫০ | ১১০.৬৫ | ১ | ৫ |
| ২ | জো রুট | ইংল্যান্ড | ৬ | ৬ | ৪৯৬ | ১১১* | ২৪৮.০০ | ৯১.০০ | ১ | ৫ |
| ৩ | তানজিদ হাসান | বাংলাদেশ | ১২ | ১২ | ৪৮৬ | ১০৭ | ৪৪.১৮ | ১০৩.৮৪ | ১ | ৫ |
| ৪ | ড্যারিল মিচেল | নিউজিল্যান্ড | ৬ | ৬ | ৪৭৩ | ১৩৭ | ৯৪.৬০ | ৯৭.৭২ | ২ | ২ |
| ৫ | তৌহিদ হৃদয় | বাংলাদেশ | ১২ | ১১ | ৪৩৩ | ৮৩ | ৬১.৮৫ | ৭৯.১৫ | ০ | ৩ |
| ৬ | বিরাট কোহলি | ভারত | ৬ | ৬ | ৩৮৪ | ১২৪ | ৬৪.০০ | ১০৬.৬৬ | ১ | ৩ |
| ৬ | দিপেন্দ্র সিং আইরি | নেপাল | ৮ | ৭ | ৩৮৪ | ১০০ | ৫৪.৮৫ | ১০১.৮৫ | ১ | ৪ |
| ৮ | রোহিত শর্মা | ভারত | ৯ | ৯ | ৩৭৯ | ১৩৮ | ৪২.১১ | ৯৯.২১ | ১ | ১ |
| ৯ | হাম্মাদ মির্জা | ওমান | ৭ | ৭ | ৩৭৫ | ১১২* | ৬২.৫০ | ৮২.৫৯ | ১ | ২ |
| ১০ | নাজমুল হোসেন শান্ত | বাংলাদেশ | ১২ | ১২ | ৩৭১ | ১০৫ | ৩৭.১০ | ৭৪.২০ | ১ | ২ |
উল্লেখযোগ্য অন্যান্যরা: লিটন দাস ও উইল ইয়াং (৩০০), বেন ডাকেট (২৯২), ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন (২৮৯), সাইতেজা মুক্কামাল্লা (২৮৮), জতিন্দর সিং (২৮৭)।
মনে রাখা জরুরি: এটি শুধু ওয়ানডে ফরম্যাটের ২০২৬ সালের তালিকা (২০ জুলাই পর্যন্ত), তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সম্মিলিত তালিকা নয়। জুলাইয়ের পর হওয়া সিরিজগুলোর রান এই তালিকায় যুক্ত নেই।
শীর্ষ রান সংগ্রাহকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ: শুবমান গিল
২০২৬ সালের ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক শুবমান গিল। ৯ ম্যাচের ৮ ইনিংসে তিনি করেছেন ৫৬১ রান, যার মধ্যে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি (সর্বোচ্চ ১৫৪) ও পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি। তাঁর ব্যাটিং গড় ৯৩.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১১০.৬৫ — যা প্রমাণ করে তিনি শুধু রানই করেননি, বরং দ্রুতগতিতে এবং ধারাবাহিকভাবে করেছেন। আট ইনিংসের মধ্যে পাঁচটিতেই অন্তত অর্ধশতক হাঁকানো তাঁর ধারাবাহিকতার বড় প্রমাণ। অধিনায়ক হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও এই ফর্ম তাঁকে ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত ব্যাটারে পরিণত করেছে।
ফরম্যাটভিত্তিক সেরা রান সংগ্রাহক
২০২৬ সালে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান
উপরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা অনুযায়ী শীর্ষে শুবমান গিল (৫৬১), এরপর জো রুট (৪৯৬) ও তানজিদ হাসান (৪৮৬)।
২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ রান
২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি ইভেন্ট ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬, যেখানে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান, ৩৮৩ রান। পুরো বছরের সম্মিলিত টি-টোয়েন্টি তালিকা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতেও হ্যারি ব্রুক, সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, শ্রেয়াস আইয়ারের মতো ব্যাটাররা নিয়মিত রান করেছেন।
২০২৬ সালে টেস্টে সর্বোচ্চ রান
২০২৬ সালের টেস্ট ক্রিকেটে সম্মিলিত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের নাম-ভিত্তিক তালিকা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে সিরিজ-পর্যায়ে জো রুট, শুবমান গিল ও স্মৃতি মান্ধানার (নারী ক্রিকেট) মতো ব্যাটাররা একাধিক সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন।
২০২৬ সালের উল্লেখযোগ্য ব্যাটিং রেকর্ড
- জো রুটের অস্বাভাবিক গড়: ২০২৬ সালের ওয়ানডেতে জো রুট ৬ ম্যাচের ৬ ইনিংসে ৪ বার অপরাজিত থেকে ৪৯৬ রান করেছেন — তাঁর গড় দাঁড়িয়েছে বিস্ময়কর ২৪৮.০০, যা এই তালিকার সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড়।
- সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি (ওয়ানডে তালিকায়): ড্যারিল মিচেল ছয় ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন, যা এই তালিকায় সর্বোচ্চ।
- সবচেয়ে বেশি হাফ-সেঞ্চুরি: শুবমান গিল ও জো রুট — দুজনেই পাঁচটি করে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন।
- সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (এই তালিকায়): শুবমান গিলের ১৫৪ রান।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ সর্বোচ্চ রান: সাহিবজাদা ফারহান (৩৮৩ রান), আর সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী (উভয়ে ১৪টি করে)।
- ধারাবাহিকতা: বাংলাদেশের তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত ১২টি করে ম্যাচ খেলে টানা রান করে গেছেন, যা তাঁদের নিয়মিত সুযোগ পাওয়া ও ফর্মের প্রতিফলন।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণ
ওয়ানডে তালিকার শীর্ষ দশে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের তিনজন ব্যাটার (তানজিদ হাসান, তৌহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত) জায়গা করে নিয়েছেন, যা ইঙ্গিত করে দলটি ২০২৬ সালে তুলনামূলক বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে এবং তাদের টপ-অর্ডার ধারাবাহিক রান করেছে। ভারত থেকে আছেন শুবমান গিল ও বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাও শীর্ষ দশের কাছাকাছি। ইংল্যান্ড থেকে জো রুট এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে, আর নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন ড্যারিল মিচেল। এছাড়া নেপাল ও ওমানের মতো সহযোগী দেশের ব্যাটাররাও (দিপেন্দ্র সিং আইরি, হাম্মাদ মির্জা) শীর্ষ দশে জায়গা পাওয়া প্রমাণ করে, ২০২৬ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের কারণে সহযোগী দেশগুলোও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে।
২০২৬ সালে কার পারফরম্যান্স সবচেয়ে ধারাবাহিক
শুধু রানের সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে শুবমান গিল এগিয়ে, কিন্তু ইনিংসপ্রতি প্রভাব বিবেচনায় জো রুটের গড় (২৪৮.০০) ও প্রতি দুই ইনিংসে একবার অর্ধশতকের হার তাঁকে আলাদা করে তোলে — যদিও এটি কম ইনিংস খেলার কারণেও হতে পারে। অন্যদিকে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত সবচেয়ে বেশি (১২টি) ম্যাচ খেলে রান করেছেন, অর্থাৎ তাঁদের ধারাবাহিকতা এসেছে বড় নমুনার (sample size) ভিত্তিতে। ড্যারিল মিচেল মাত্র ছয় ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি করে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি-হারের রেকর্ড গড়েছেন। ফলে “সবচেয়ে ধারাবাহিক” কাকে বলা হবে, তা নির্ভর করছে কোন মানদণ্ড (মোট রান, গড়, নাকি ইনিংসপ্রতি প্রভাব) ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর।
সামনে কী হতে পারে
২০২৬ সালের বাকি সময়ে আরও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে এই তালিকার অবস্থান বদলে যেতে পারে। যেসব ব্যাটার বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন (যেমন বাংলাদেশ বা ভারতের নিয়মিত খেলোয়াড়রা), তাঁদের মোট রান স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে, আবার কম ম্যাচ খেলা কিন্তু উচ্চ গড়ধারী ব্যাটাররা (যেমন জো রুট) যদি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে তাঁরাও শীর্ষে উঠে আসতে পারেন। তবে এটি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মাত্র — নির্দিষ্ট কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা যাচ্ছে না, কারণ আসন্ন সিরিজ সূচি, ইনজুরি বা দলে রদবদলের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং পারফরম্যান্সে (যাচাইকৃত ওয়ানডে তথ্য অনুযায়ী) শীর্ষে আছেন শুবমান গিল, যাঁর ৯ ম্যাচে ৫৬১ রান তাঁকে বছরের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটারদের একজনে পরিণত করেছে। জো রুট, তানজিদ হাসান, ড্যারিল মিচেল ও তৌহিদ হৃদয়ও এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে আছেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বছরের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ছিল আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, যেখানে সাহিবজাদা ফারহান সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সম্পূর্ণ সম্মিলিত তালিকা এই মুহূর্তে নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তাই সবশেষ ও সম্পূর্ণ তথ্যের জন্য পাঠকদের ESPNcricinfo-র লাইভ রেকর্ড পেজ দেখার পরামর্শ দেওয়া হলো।
ক্রিকেটে রান রেট ও নেট রান রেট কী? হিসাব, সূত্র ও পার্থক্য জানুন এক নজরে
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
২০২৬ সালে বিরাট কোহলি কী মাইলফলক স্পর্শ করেন?
জানুয়ারি ২০২৬-এ তিনি কুমার সাঙ্গাকারাকে টপকে সর্বকালের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার-রান তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ওঠেন, শচীন টেন্ডুলকারের পরেই।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান কে করেন?
পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান, ৩৮৩ রান নিয়ে।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কে জেতে?
ভারত, ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে, টানা দ্বিতীয় শিরোপা।
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ২০২৬ সিরিজে সর্বোচ্চ রান কার?
ওয়ানডেতে নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫৫) এবং টি-টোয়েন্টিতে তৌহিদ হৃদয় (৮৪)।