Insights Chess

Focused On Sports

  • Home
  • ক্রিকেট
  • ফুটবল
  • পরিসংখ্যান
  • সময়সূচী
  • অন্যান্য
Notification Show More
Font ResizerAa

Insights Chess

Focused On Sports

Font ResizerAa
  • Home
  • ক্রিকেট
  • ফুটবল
  • পরিসংখ্যান
  • সময়সূচী
  • অন্যান্য
  • Home
  • ক্রিকেট
  • ফুটবল
  • পরিসংখ্যান
  • সময়সূচী
  • অন্যান্য
Follow US
Insights Chess > ক্রিকেট > ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা: মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে কোন দল?
ক্রিকেট

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা: মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে কোন দল?

MD SRABON
Last updated: September 15, 2026 8:42 pm
By MD SRABON
Share
13 Min Read
ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে কোন দল
ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে কোন দল
SHARE

ইংল্যান্ড আর শ্রীলঙ্কা মাঠে নামলেই একটা আলাদা মজা তৈরি হয়। একদিকে ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ড, যারা প্রায় সব ফরম্যাটেই নিজেদের শক্তি বারবার প্রমাণ করে চলেছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা—দলটা তুলনায় ছোট, কিন্তু তাদের স্পিন বোলিংয়ের জাদু আর ঘরের মাঠের দাপট যেকোনো বড় দলকেই বিপদে ফেলে দিতে পারে।

Contents
ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি পরিসংখ্যানইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা: শেষ পাঁচ ম্যাচের ফলটেস্টে মুখোমুখি লড়াইইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা ওয়ানডেতে মুখোমুখি রেকর্ডইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি লড়াইইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা সর্বোচ্চ রান ও সর্বোচ্চ উইকেটইংল্যান্ডের শক্তির জায়গাশ্রীলঙ্কার শক্তির জায়গাইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা: শেষ পর্যন্ত এগিয়ে কোন দল?ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা প্রশ্নোত্তরইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা কতটি ম্যাচ খেলেছে?ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বেশি ম্যাচ কে জিতেছে?ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কার সর্বশেষ ম্যাচ কে জিতেছে?ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি রেকর্ড কী?ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান বা উইকেট কার?

এই দুই দলের লড়াই নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখন আরও বেড়ে গেছে। কারণ, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা দল ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে। তার আগে চলুন দেখে নিই, ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা পরিসংখ্যানে আসলে কে কতটা এগিয়ে—টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি, তিন ফরম্যাট মিলিয়ে।

নিচে ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা হেড টু হেড রেকর্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—ফরম্যাট ধরে ধরে, সাম্প্রতিক ফলাফলসহ, আর দুই দলের ভালো-খারাপ দিকগুলো নিয়েও কথা হবে।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি পরিসংখ্যান

তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এই দুই দল এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩৯টি ম্যাচ খেলেছে। ফরম্যাট অনুযায়ী ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কা ম্যাচ রেকর্ড দেখে নেওয়া যাক।

ফরম্যাটমোট ম্যাচইংল্যান্ডের জয়শ্রীলঙ্কার জয়টাইফল হয়নিসর্বশেষ ফলাফল
টেস্ট৩৯১৯৯–১১ (ড্র)২০২৪ সালে ঘরের মাঠে সিরিজ ২-১ এ জিতেছে ইংল্যান্ড
ওয়ানডে৮২৪০৩৮১৩জানুয়ারি ২০২৬, শ্রীলঙ্কায় ৫৩ রানে জিতেছে ইংল্যান্ড
টি-টোয়েন্টি১৮১৪৪––ফেব্রুয়ারি ২০২৬, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫১ রানে জিতেছে ইংল্যান্ড

এই সংখ্যাগুলো দেখলে একটা জিনিস পরিষ্কার—টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ড অনেকটাই এগিয়ে। কিন্তু ওয়ানডেতে দুই দল প্রায় সমান সমান। মাত্র দুই ম্যাচের ব্যবধান, যেটা যেকোনো সময় উল্টে যেতে পারে। তাই বলা যায়, ওয়ানডেই হলো এই লড়াইয়ের সবচেয়ে জমজমাট জায়গা।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা: শেষ পাঁচ ম্যাচের ফল

কে এখন ভালো ফর্মে আছে, সেটা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো দেখা। নিচে দুই দলের শেষ পাঁচটা মুখোমুখি ম্যাচের খুঁটিনাটি দেওয়া হলো।

তারিখফরম্যাটপ্রতিযোগিতাভেন্যুফলাফলজয়ী দল
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬টি-টোয়েন্টিটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (সুপার এইট)পাল্লেকেলে৫১ রানে জয়ইংল্যান্ড
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬টি-টোয়েন্টিদ্বিপাক্ষিক সিরিজ, ৩য় টি-টোয়েন্টিপাল্লেকেলেসিরিজ শেষ হয় ৩-০ তেইংল্যান্ড
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬টি-টোয়েন্টিদ্বিপাক্ষিক সিরিজ, ২য় টি-টোয়েন্টিপাল্লেকেলেইংল্যান্ডের জয়ইংল্যান্ড
৩০ জানুয়ারি ২০২৬টি-টোয়েন্টিদ্বিপাক্ষিক সিরিজ, ১ম টি-টোয়েন্টিপাল্লেকেলেডিএলএস মেথডে ১১ রানে জয়ইংল্যান্ড
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ওয়ানডেদ্বিপাক্ষিক সিরিজ, ৩য় ওয়ানডেকলম্বো (আরপিএস)৫৩ রানে জয়ইংল্যান্ড

এই টেবিল দেখলেই বোঝা যায়, এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড পুরোপুরি ছড়ি ঘোরাচ্ছে। শেষ পাঁচটা ম্যাচের পাঁচটাতেই জিতেছে তারা—একটা ওয়ানডে আর চারটা টি-টোয়েন্টি, যার মধ্যে একটা আবার বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে। মজার ব্যাপার হলো, জানুয়ারির ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়েও ইংল্যান্ড ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতে নেয় ২-১ এ। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তো শ্রীলঙ্কাকে একদম হোয়াইটওয়াশ করে দেয়। এতেই বোঝা যায়, এখনকার ফর্মে দুই দলের মধ্যে ফারাকটা বেশ চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে।

টেস্টে মুখোমুখি লড়াই

টেস্টে ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার লড়াই শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালে, তখন শ্রীলঙ্কা সবেমাত্র টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে। শুরুর দিকে ইংল্যান্ড সহজেই জিতে যেত, কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে মুত্তিয়া মুরালিধরন আসার পর শ্রীলঙ্কা রীতিমতো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ১৯৯৮ সালে ওভালে আর ২০০৩-০৪ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে ইংল্যান্ডকে হারানো—এই দুটো জয় শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে বেশ গর্বের।

তবে মোট হিসাব করলে ৩৯টা টেস্টের মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ১৯টা, শ্রীলঙ্কা মাত্র ৯টা, বাকি ১১টা ড্র। ইংল্যান্ডের মাটিতে সিমিং উইকেটে খেলা হয় বলে সেখানে ইংল্যান্ড অনেক বেশি শক্তিশালী। ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ড নিজেদের মাঠে ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ এ জিতে নেয়। জো রুট একাই তিন ম্যাচে করেন ৩৭৫ রান আর হন সিরিজ সেরা। তবে শ্রীলঙ্কার কামিন্দু মেন্ডিসও ২৬৭ রান করে লড়াইটা জমিয়ে রাখেন—মানে টেস্টেও শেষ পর্যন্ত একপেশে কিছু হয়নি।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা ওয়ানডেতে মুখোমুখি রেকর্ড

তিন ফরম্যাটের মধ্যে ওয়ানডেই হলো এই লড়াইয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি জায়গা। ৮২ ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ৪০টা, শ্রীলঙ্কা ৩৮টা, একটা টাই আর তিনটায় ফল হয়নি। এই সামান্য ব্যবধান বলে দেয়, চার দশক ধরে খেলেও কোনো দলই ওয়ানডেতে অন্যের ওপর পুরোপুরি ছড়ি ঘোরাতে পারেনি।

বড় টুর্নামেন্টে গেলে এই সমতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই দল ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে, আর দুই দলই জিতেছে ৬টা করে—পুরো সমান সমান। তবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে, ৩ ম্যাচের মধ্যে ২টা জিতেছে। ঘরের মাঠের সুবিধাও এখানে বড় ভূমিকা রাখে—ইংল্যান্ডে খেলা ৩৫ ম্যাচের মধ্যে স্বাগতিকরা জিতেছে ১৮টা, আবার শ্রীলঙ্কায় খেলা ২৯ ম্যাচের মধ্যে শ্রীলঙ্কা জিতেছে ১৭টা। মানে কন্ডিশন যাদের পক্ষে থাকে, তারাই একটু বাড়তি সুবিধা পায়।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি লড়াই

টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের লড়াই তুলনায় নতুন, কিন্তু এখানেই ইংল্যান্ডের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। ১৮ ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ১৪টা, শ্রীলঙ্কার জয় মাত্র ৪টায়। এই ব্যবধানটা অন্য দুই ফরম্যাটের তুলনায় অনেক বেশি।

সাম্প্রতিক ফলাফলও এই কথাই বলছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের সিরিজে ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করে, তারপর কিছুদিনের মধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে আবার ৫১ রানের বড় ব্যবধানে জেতে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সব মিলিয়েও ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশ এগিয়ে।

ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড এই ফরম্যাটে বেশ আক্রমণাত্মক আর গভীর—ফিল সল্ট, জেকব বেথেল, হ্যারি ব্রুকের মতো ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে জানেন। বোলিংয়ে আদিল রশিদের লেগস্পিন আর স্যাম কারানের মতো বাঁহাতি অলরাউন্ডার তাদের আক্রমণে বৈচিত্র্য এনে দেয়। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানার স্লিং অ্যাকশনের গতি মাঝেমধ্যে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারকে ভোগায় ঠিকই, কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবটাই তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। চাপের মুহূর্তে, বিশেষ করে ডেথ ওভারে, এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডকেই বেশি স্থির মনে হয়েছে।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা সর্বোচ্চ রান ও সর্বোচ্চ উইকেট

এই লড়াইয়ের ইতিহাসে বেশ কিছু নাম আলাদাভাবে মনে রাখার মতো। টেস্টে মুত্তিয়া মুরালিধরন শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলারদের একজন—২০০৩-০৪ সালে একাই এক সিরিজে নিয়েছিলেন ২৬ উইকেট। ব্যাটিংয়ে কুমার সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বারবার বড় রান করে গেছেন, শ্রীলঙ্কার হয়ে এই তালিকায় তাঁরাই সবচেয়ে ভরসার নাম। ইংল্যান্ডের পক্ষে জো রুট এখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবচেয়ে সফল ব্যাটার—২০২৪ সালের টেস্ট সিরিজে করেন ৩৭৫ রান, আবার ২০২৬ সালের ওয়ানডে সিরিজেও প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হন ২৪৭ রান করে। আদিল রশিদও সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কার্যকর বোলারদের একজন হয়ে উঠেছেন।

তবে পুরো ইতিহাস মিলিয়ে কে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন বা উইকেট নিয়েছেন, তার একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন পাওয়া যায়। তাই এখানে অনুমান করে কোনো একক সংখ্যা বলা হলো না। তবে এতটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, মুরালিধরন, সাঙ্গাকারা আর জয়াবর্ধনে শ্রীলঙ্কার পক্ষে এবং রুট ইংল্যান্ডের পক্ষে এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় নাম।

ইংল্যান্ডের শক্তির জায়গা

ইংল্যান্ড কেন সামগ্রিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে, তার কয়েকটা কারণ আছে। প্রথমত, তাদের ব্যাটিং লাইনআপ অনেক গভীর—টপ অর্ডার থেকে লোয়ার মিডল অর্ডার পর্যন্ত সবাই রান করতে জানে। জো রুট, হ্যারি ব্রুক, ফিল সল্ট—এঁরা যেকোনো কন্ডিশনেই মানিয়ে নিতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, পেস বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের বৈচিত্র্য শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশি। জেমস অ্যান্ডারসনের উত্তরসূরি হিসেবে গাস অ্যাটকিনসন, জোফরা আর্চার, স্যাম কারান—সবাই বিভিন্ন কন্ডিশনে কাজে লাগে। স্পিনে আদিল রশিদও দীর্ঘদিন ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের প্রধান অস্ত্র।

তৃতীয়ত, বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা ইংল্যান্ডের বেশি। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আর একাধিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা তাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে। সব মিলিয়ে দলীয় ভারসাম্যের দিক থেকে এখন ইংল্যান্ডই বেশি এগিয়ে, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে।

শ্রীলঙ্কার শক্তির জায়গা

তবে শ্রীলঙ্কাকে হালকাভাবে নেওয়ার উপায় নেই। তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র স্পিন বোলিং—উপমহাদেশের কন্ডিশনে বিশ্বমানের স্পিনার তৈরি করার একটা লম্বা ইতিহাস আছে শ্রীলঙ্কার। দুনিথ ভেল্লালাগে, মাহিশ থিকশানা, জেফ্রি ভান্ডারসের মতো বোলাররা নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের বারবার বিপদে ফেলেছেন। ২০২৬ সালের প্রথম ওয়ানডেতেই তো চার স্পিনার মিলে ছয় উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছিল—এটাই এর সবচেয়ে তাজা উদাহরণ।

শ্রীলঙ্কার আরেকটা বড় শক্তি হলো নিজেদের মাঠে খেলার দক্ষতা। কলম্বো বা পাল্লেকেলের মতো মন্থর, টার্নিং উইকেটে তারা যেকোনো দলকেই চাপে ফেলতে পারে। এছাড়া মাথিশা পাথিরানার গতি আর পাভান রথনায়েকের মতো তরুণ ব্যাটারের উঠে আসা শ্রীলঙ্কার জন্য বেশ আশার কথা। বড় মঞ্চে চমক দেখানোর ইতিহাসও তাদের কম নয়—১৯৯৬ আর ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয় প্রমাণ করে, চাপের মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা যেকোনো সময় বড় কিছু করে দেখাতে পারে।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ

দুই দলের ইতিহাসে কিছু ম্যাচ আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে। ১৯৯৮ সালে ওভালে একমাত্র টেস্টে মুরালিধরনের ঘূর্ণিতে শ্রীলঙ্কার ১০ উইকেটে জয়—এটা ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদের শক্তির প্রথম বড় প্রমাণ ছিল। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে ৫-০ তে ওয়ানডে সিরিজ জেতা আজও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য। আবার ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ এ জেতাটা ইংল্যান্ডের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এশিয়ার কন্ডিশনে স্পিন খেলতে না পারার সমালোচনা তাদের অনেকদিনের। এই সিরিজেই তৃতীয় ওয়ানডেতে হ্যারি ব্রুক আর জো রুটের ১৯১ রানের জুটি, আর ব্রুকের অপরাজিত ১৩৬ রানের ইনিংস—এটা এই লড়াইয়ের অন্যতম স্মরণীয় ব্যাটিং প্রদর্শনী হয়ে থাকবে।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা: শেষ পর্যন্ত এগিয়ে কোন দল?

শুধু মোট ম্যাচ জয়ের সংখ্যা দেখলে সহজেই মনে হবে ইংল্যান্ড এগিয়ে। কিন্তু পুরো ছবিটা বুঝতে হলে ফরম্যাটের পার্থক্যটাও মাথায় রাখতে হবে। টেস্টে ইংল্যান্ডের ব্যবধান বড়, টি-টোয়েন্টিতে আরও বড়, কিন্তু ওয়ানডেতে দুই দল প্রায় সমান।

শেষ পাঁচ ম্যাচের ফল বলছে, এখন ইংল্যান্ড দারুণ ফর্মে আছে—পাঁচেই পাঁচ জয়। ব্যাটিংয়ের গভীরতা, বোলিংয়ের বৈচিত্র্য আর দলীয় অভিজ্ঞতার দিক থেকেও এখন ইংল্যান্ডই এগিয়ে। তবে শ্রীলঙ্কার স্পিন আক্রমণ আর নিজেদের মাঠে খেলার দক্ষতা যেকোনো সময় এই ব্যবধান কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে ওয়ানডেতে, যেখানে ইতিহাস প্রায় সমান সমান।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সামগ্রিক পরিসংখ্যানে, আর বিশেষ করে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে, ইংল্যান্ড স্পষ্টভাবেই এগিয়ে। তবে ওয়ানডেতে লড়াইটা আজও প্রায় সমান সমান।

চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই লড়াইয়ে পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ড সামগ্রিকভাবে একটু এগিয়ে—বিশেষ করে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে, যেখানে তাদের জয়ের ব্যবধান বেশ স্পষ্ট। কিন্তু ওয়ানডেতে এই লড়াই আজও প্রায় সমান সমান, মাত্র দুই ম্যাচের পার্থক্য।

সাম্প্রতিক ফর্ম দেখলে ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখতে হবে, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে। কিন্তু ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে কন্ডিশন আর মুহূর্তের ফর্মই সব বদলে দিতে পারে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ আসন্ন ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা সিরিজ এই সমীকরণে নতুন কিছু যোগ করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

ভারত বনাম আফগানিস্তান: মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে কোন দল?

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা প্রশ্নোত্তর

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা কতটি ম্যাচ খেলেছে?

তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩৯টি ম্যাচ খেলেছে দুই দল—৩৯টি টেস্ট, ৮২টি ওয়ানডে আর ১৮টি টি-টোয়েন্টি।

ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বেশি ম্যাচ কে জিতেছে?

সামগ্রিকভাবে ইংল্যান্ডই বেশি জিতেছে। টেস্টে ১৯-৯, ওয়ানডেতে ৪০-৩৮ আর টি-টোয়েন্টিতে ১৪-৪ ব্যবধানে ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কার সর্বশেষ ম্যাচ কে জিতেছে?

সর্বশেষ ম্যাচটা ছিল ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে, আর সেখানে ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে ৫১ রানে।

ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি রেকর্ড কী?

ওয়ানডেতে ৮২ ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ৪০টি আর শ্রীলঙ্কা ৩৮টি, একটা টাই আর তিনটায় ফল হয়নি। তিন ফরম্যাটের মধ্যে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি রেকর্ড।

ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান বা উইকেট কার?

পুরো ইতিহাস মিলিয়ে নির্দিষ্ট একটা সংখ্যা নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যায় না, তবে মুত্তিয়া মুরালিধরন, কুমার সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনে শ্রীলঙ্কার পক্ষে, আর জো রুট ইংল্যান্ডের পক্ষে এই লড়াইয়ের সবচেয়ে পরিচিত আর সফল নাম হিসেবে থেকে গেছেন।

TAGGED:ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা
Share This Article
Facebook Copy Link Print
Leave a Comment Leave a Comment

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Latest News

পর্তুগাল বনাম স্পেন
পর্তুগাল বনাম স্পেন হেড টু হেড পরিসংখ্যান সর্বশেষ আপডেট
October 10, 2026
ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা
ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা হেড টু হেড পরিসংখ্যান সর্বশেষ আপডেট
October 7, 2026
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা হেড টু হেড রেকর্ড ও পরিসংখ্যান ২০২৬
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা হেড টু হেড রেকর্ড ও পরিসংখ্যান ২০২৬
October 5, 2026
স্পেন বনাম ইতালি
স্পেন বনাম ইতালি হেড টু হেড পরিসংখ্যান ও রেকর্ড ২০২৬
September 30, 2026
ইতালি বনাম ইংল্যান্ড
ইতালি বনাম ইংল্যান্ড হেড টু হেড পরিসংখ্যান ২০২৬ সর্বশেষ
September 29, 2026

You Might Also Like

বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটারের তালিকা ও রেকর্ডএবং সর্বশেষ আপডেট
ক্রিকেট

বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটারের তালিকা ও রেকর্ড:এবং সর্বশেষ আপডেট

By Imran Hossen
এশিয়া কাপের সেরা ১০ বোলার
ক্রিকেট

এশিয়া কাপের সেরা ১০ বোলার: সর্বকালের সেরা তালিকা

By MD SRABON
বাংলাদেশের সামনে ২০২৬ সালের বড় ক্রিকেট সিরিজ ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা
ক্রিকেটসময়সূচী

বাংলাদেশের সামনে ২০২৬ সালের বড় ক্রিকেট সিরিজ: ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা

By MD SRABON
ক্রিকেটে রান রেট ও নেট রান রেট কী? হিসাব, সূত্র ও পার্থক্য
ক্রিকেট

ক্রিকেটে রান রেট ও নেট রান রেট কী? হিসাব, সূত্র ও পার্থক্য জানুন এক নজরে

By Ayesha Khan
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
  • Privacy Policy

© 2026 Insights Chess | Designed By Sidratul Fariya Muskan

Welcome Back!

Sign in to your account

Username or Email Address
Password

Lost your password?