আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান হেড টু হেড পরিসংখ্যান ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দুই দল এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তাদের মধ্যে মোট ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ১৩টি এবং আফগানিস্তান জিতেছে ৫টি ম্যাচ। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের আধিপত্য বেশি দেখা গেলেও টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান তুলনামূলকভাবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে।
২০২৩ সালের পর আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে ব্যবধান কমিয়েছে। ২০২৫ সালের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দুই দল দুটি করে নয়, পাকিস্তান দুটি এবং আফগানিস্তান একটি ম্যাচ জিতেছে। তাই সামগ্রিক হেড টু হেডে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক লড়াইয়ে আফগানিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা উল্লেখযোগ্য।
আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান হেড টু হেড রেকর্ড এক নজরে
ওয়ানডেতে দুই দল এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেলেছে। এই ৮ ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ৭টি এবং আফগানিস্তান জিতেছে মাত্র ১টি। আফগানিস্তানের একমাত্র ওয়ানডে জয়টি আসে ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বিশ্বকাপের ম্যাচে। সেই ম্যাচে আফগানিস্তান পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৩ সালের দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান প্রথম দুই ম্যাচ জিতলেও তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান জয় পায়। টি-টোয়েন্টিতে দুই দল ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে পাকিস্তান ৬টি ও আফগানিস্তান ৪টি ম্যাচ জিতেছে। ফলে সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাট মিলিয়ে পাকিস্তান ১৩-৫ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
| ফরম্যাট | মোট ম্যাচ | আফগানিস্তান জয় | পাকিস্তান জয় | ড্র/নো রেজাল্ট |
|---|---|---|---|---|
| টেস্ট | ০ | ০ | ০ | ০ |
| ওয়ানডে | ৮ | ১ | ৭ | ০ |
| টি-টোয়েন্টি | ১০ | ৪ | ৬ | ০ |
| মোট | ১৮ | ৫ | ১৩ | ০ |
ওয়ানডেতে আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান রেকর্ড
আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান ওয়ানডে হেড টু হেডে পাকিস্তানের পরিষ্কার আধিপত্য রয়েছে। দুই দল ৮টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে এবং পাকিস্তান জিতেছে ৭টি ম্যাচ। আফগানিস্তানের একমাত্র জয় এসেছে ২০২৩ বিশ্বকাপে, যখন তারা পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে। এর আগে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান জয় পেয়েছিল। ২০২৩ সালের আগস্টে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল। সেই সিরিজের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তান জয় পেলেও সিরিজের ফল পাকিস্তানের পক্ষে ২-১ ছিল।
ওয়ানডেতে পাকিস্তানের জয় শতাংশ ৮৭.৫০ শতাংশ, বিপরীতে আফগানিস্তানের জয় শতাংশ মাত্র ১২.৫০ শতাংশ। তাই ঐতিহাসিক ওয়ানডে রেকর্ডে পাকিস্তান অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও আফগানিস্তানের ২০২৩ সালের জয় তাদের ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান রেকর্ড
টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের লড়াই ওয়ানডের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন পর্যন্ত ১০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছে ৬টি এবং আফগানিস্তান জিতেছে ৪টি। অর্থাৎ পাকিস্তানের জয় শতাংশ ৬০ শতাংশ এবং আফগানিস্তানের জয় শতাংশ ৪০ শতাংশ। ২০২৩ সালে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি টি-টোয়েন্টি জয় তুলে নিয়ে আলোচনায় আসে। একই বছরের পরের ম্যাচে পাকিস্তান ৬৬ রানে জয় পেয়ে ব্যবধান কিছুটা কমায়। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসেও আফগানিস্তান পাকিস্তানকে হারিয়েছিল।
২০২৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান দুটি ম্যাচ জেতে এবং আফগানিস্তান একটি ম্যাচ জেতে। ফলে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও আফগানিস্তান এই ফরম্যাটে প্রতিপক্ষকে নিয়মিত চাপ দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
আফগানিস্তানের শক্তির জায়গা ও পারফর্মেন্স
আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাগুলোর একটি হলো তাদের বৈচিত্র্যময় স্পিন বোলিং আক্রমণ। রশিদ খান, নূর আহমদ ও অন্যান্য স্পিনাররা মাঝের ওভারে ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারেন। টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের দ্রুত রান করার সক্ষমতাও তাদের বড় সম্পদ। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের মতো ব্যাটাররা পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তুলতে পারেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের একাধিক জয় তাদের উন্নতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে স্পিনারদের কার্যকর ব্যবহার আফগানিস্তানের ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে সীমিত ওভারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাই হেড টু হেডে পিছিয়ে থাকলেও আফগানিস্তান এখন পাকিস্তানের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিপক্ষ।
পাকিস্তানের শক্তির জায়গা ও পারফর্মেন্স
পাকিস্তানের অন্যতম শক্তির জায়গা হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী পেস বোলিং আক্রমণ। নতুন বলে দ্রুত উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা পাকিস্তানকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাড়তি সুবিধা দেয়। শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফের মতো পেসাররা ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করতে পারেন। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়েও অভিজ্ঞতা ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের সমন্বয় দেখা যায়। ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৮ ম্যাচে ৭টি জয় তাদের সামগ্রিক শক্তির একটি বড় পরিসংখ্যান। টি-টোয়েন্টিতেও পাকিস্তান ১০ ম্যাচে ৬টি জয় পেয়েছে। চাপের ম্যাচে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সামগ্রিক হেড টু হেড রেকর্ডে পাকিস্তানের এগিয়ে থাকার পেছনে পেস আক্রমণ, অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা যায়।
আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান হার-জয়ের শতাংশ
| ফরম্যাট | আফগানিস্তান জয় % | আফগানিস্তান হার % | পাকিস্তান জয় % | পাকিস্তান হার % |
|---|---|---|---|---|
| টেস্ট | — | — | — | — |
| ওয়ানডে | ১২.৫০% | ৮৭.৫০% | ৮৭.৫০% | ১২.৫০% |
| টি-টোয়েন্টি | ৪০% | ৬০% | ৬০% | ৪০% |
| মোট | ২৭.৭৮% | ৭২.২২% | ৭২.২২% | ২৭.৭৮% |
আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান — শেষ পাঁচ ম্যাচ
শেষ পাঁচ ম্যাচের ফলাফল দেখলে লড়াইটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়। এই পাঁচ ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছে ৩টি এবং আফগানিস্তান জিতেছে ২টি। ২০২৫ সালের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ১৮ রানে জয় পেয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছিল। তার আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরের ওয়ানডেতে আফগানিস্তান ৮ উইকেটে পাকিস্তানকে হারায়।
একই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছিল। ফলে পুরোনো হেড টু হেড পাকিস্তানের পক্ষে হলেও সাম্প্রতিক ম্যাচের ফলাফল আফগানিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতাও তুলে ধরে।
| তারিখ | ফরম্যাট | ফলাফল |
|---|---|---|
| ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | টি-টোয়েন্টি | পাকিস্তান ৭৫ রানে জয়ী |
| ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | টি-টোয়েন্টি | আফগানিস্তান ১৮ রানে জয়ী |
| ২৯ আগস্ট ২০২৫ | টি-টোয়েন্টি | পাকিস্তান ৩৯ রানে জয়ী |
| ২৩ অক্টোবর ২০২৩ | ওয়ানডে | আফগানিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী |
| ৬ অক্টোবর ২০২৩ | টি-টোয়েন্টি | আফগানিস্তান ৪ উইকেটে জয়ী |
আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান — কোন দল এগিয়ে?
সামগ্রিক হেড টু হেড রেকর্ডে পাকিস্তান বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে। মোট ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ১৩টি এবং আফগানিস্তান জিতেছে ৫টি। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের রেকর্ড ৭-১, যা দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান। টি-টোয়েন্টিতে ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে পাকিস্তান ৬-৪ ব্যবধানে এগিয়ে। আফগানিস্তানের জন্য ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জয় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
২০২৫ সালের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও আফগানিস্তান একটি ম্যাচ জিতে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাই বর্তমান সংখ্যাগত রেকর্ড পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও আফগানিস্তান বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে।
উপসংহার
আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান হেড টু হেড রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে পাকিস্তানের সামগ্রিক আধিপত্য স্পষ্ট হয়। দুই দল এখন পর্যন্ত ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে এবং পাকিস্তান জিতেছে ১৩টি। আফগানিস্তানের জয়সংখ্যা ৫টি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি দেখা গেছে। ওয়ানডেতে পাকিস্তান ৮ ম্যাচে ৭টি জয় নিয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য আফগানিস্তান ৪টি জয় পেয়েছে এবং ব্যবধান ৬-৪। র
শিদ খানদের স্পিন আক্রমণ এবং আফগান ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট পাকিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ ও অভিজ্ঞতা তাদের ঐতিহাসিক রেকর্ডে বড় ভূমিকা রেখেছে। ফলে বর্তমান হেড টু হেড পরিসংখ্যানে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও দুই দলের সাম্প্রতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আরও জানুন ঃ তাসকিন আহমেদ: জীবনী, বয়স, ক্যারিয়ার, পরিসংখ্যান ও সর্বশেষ
আফগানিস্তান ও পাকিস্তান প্রশ্ন:FAQ
প্রশ্ন: আফগানিস্তান ও পাকিস্তান মোট কতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে?
উত্তর: ১৮টি।
প্রশ্ন: পাকিস্তান কতটি ম্যাচ জিতেছে?
উত্তর: ১৩টি।
প্রশ্ন: আফগানিস্তান কতটি ম্যাচ জিতেছে?
উত্তর: ৫টি।
প্রশ্ন: ওয়ানডেতে কে এগিয়ে?
উত্তর: পাকিস্তান ৭-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টিতে কে এগিয়ে?
উত্তর: পাকিস্তান ৬-৪ ব্যবধানে এগিয়ে।
প্রশ্ন: আফগানিস্তান কি পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে হারিয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ১বার।
প্রশ্ন: দুই দল কি টেস্ট খেলেছে?
উত্তর: না, এখনো খেলেনি।