পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স ইউরোপের দুই পরিচিত ফুটবল শক্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ১৯২৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখন পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচ হয়েছে। পর্তুগাল জিতেছে ৬টি ম্যাচ, ফ্রান্স জিতেছে ২০টি এবং ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি ম্যাচটি হয় ২০২৪ সালের ইউরো কোয়ার্টার-ফাইনালে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচটি ০-০ গোলে শেষ হয়। এরপর টাইব্রেকারে ফ্রান্স ৫-৩ গোলে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠে।
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স মুখোমুখি পরিসংখ্যান
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স মুখোমুখি লড়াই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত দ্বৈরথ। ২০২৪ সালের কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত দুই দল মোট ২৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স ২০টি ম্যাচে জয় পেয়েছে, পর্তুগালের জয় ৬টি এবং ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। গোলের হিসাবেও ফ্রান্স এগিয়ে রয়েছে। ফ্রান্স মোট ৫২টি গোল করেছে, যেখানে পর্তুগালের গোল ৩১টি। ২০২৪ সালের ইউরো কোয়ার্টার-ফাইনালের গোলশূন্য ম্যাচের পরও দুই দলের মোট গোলসংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
| পরিসংখ্যান | পর্তুগাল | ফ্রান্স |
|---|---|---|
| মোট ম্যাচ | ২৯ | ২৯ |
| জয় | ৬ | ২০ |
| জয়ের হার | ২০.৭% | ৬৯.০% |
| ড্র | ৩ | ৩ |
| ড্রয়ের হার | ১০.৩% | ১০.৩% |
| পরাজয় | ২০ | ৬ |
| পরাজয়ের হার | ৬৯.০% | ২০.৭% |
| গোল | ৩১ | ৫২ |
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স: সর্বশেষ ১০ ম্যাচ
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্সের সর্বশেষ ১০টি মুখোমুখি ম্যাচের ফল দেখলে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সের আধিপত্য তুলনামূলকভাবে বেশি। এই ১০ ম্যাচে ফ্রান্স জিতেছে ৬টি, পর্তুগাল জিতেছে ১টি এবং ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ২০২৪ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে গোলশূন্য ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্স জয় পায়। অন্যদিকে, ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১–০ গোলে জিতে পর্তুগাল শিরোপা নিশ্চিত করেছিল।
| তারিখ | ম্যাচের ফল | ফলাফল | প্রতিযোগিতা |
|---|---|---|---|
| ৫ জুলাই ২০২৪ | পর্তুগাল ০–০ ফ্রান্স | ড্র* | ইউরো |
| ২৩ জুন ২০২১ | পর্তুগাল ২–২ ফ্রান্স | ড্র | ইউরো |
| ১৪ নভেম্বর ২০২০ | পর্তুগাল ০–১ ফ্রান্স | ফ্রান্স জয় | নেশন্স লিগ |
| ১১ অক্টোবর ২০২০ | ফ্রান্স ০–০ পর্তুগাল | ড্র | নেশন্স লিগ |
| ১০ জুলাই ২০১৬ | পর্তুগাল ১–০ ফ্রান্স | পর্তুগাল জয় | ইউরো |
| ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | পর্তুগাল ০–১ ফ্রান্স | ফ্রান্স জয় | প্রীতি ম্যাচ |
| ১১ অক্টোবর ২০১৪ | ফ্রান্স ২–১ পর্তুগাল | ফ্রান্স জয় | প্রীতি ম্যাচ |
| ৫ জুলাই ২০০৬ | ফ্রান্স ১–০ পর্তুগাল | ফ্রান্স জয় | বিশ্বকাপ |
| ২৫ এপ্রিল ২০০১ | ফ্রান্স ৪–০ পর্তুগাল | ফ্রান্স জয় | প্রীতি ম্যাচ |
| ২৮ জুন ২০০০ | ফ্রান্স ২–১ পর্তুগাল | ফ্রান্স জয় | ইউরো |
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স: সর্বশেষ ম্যাচ
পর্তুগাল ও ফ্রান্সের সর্বশেষ মুখোমুখি ম্যাচটি হয় ৫ জুলাই ২০২৪, ইউরো ২০২৪-এর কোয়ার্টার ফাইনালে। হামবুর্গের ভোলকসপারকস্টাডিং-এ নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। সেখানে ফ্রান্স ৫–৩ গোলে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বার্নার্দো সিলভা ও নুনো মেন্দেস পেনাল্টিতে গোল করেন, তবে জোয়াও ফেলিক্সের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফ্রান্সের পাঁচ শুটারই সফল হন। ম্যাচে পর্তুগালের কোচ ছিলেন রবার্তো মার্তিনেজ এবং ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। রেফারি ছিলেন মাইকেল অলিভার।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৫ জুলাই ২০২৪ |
| ম্যাচ | পর্তুগাল ০–০ ফ্রান্স |
| পেনাল্টি | ফ্রান্স ৫–৩ পর্তুগাল |
| প্রতিযোগিতা | ইউরো ২০২৪ কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ভেন্যু | ভোলকসপারকস্টাডিং, হামবুর্গ |
| দর্শক | ৪৭,৭৮৯ |
| রেফারি | মাইকেল অলিভার |
| পর্তুগালের কোচ | রবার্তো মার্তিনেজ |
| ফ্রান্সের কোচ | দিদিয়ের দেশম |
বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স
পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মুখোমুখি ইতিহাসে বড় টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ইউরো ও বিশ্বকাপে দুই দল একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ ইউরো সেমিফাইনাল, ২০০৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, ২০১৬ ইউরো ফাইনাল এবং ২০২৪ ইউরো কোয়ার্টার-ফাইনাল উল্লেখযোগ্য।
২০০০ ইউরো: ফ্রান্স ২–১ পর্তুগাল
২০০০ সালের ইউরো সেমিফাইনালে ফ্রান্স ২–১ গোলে পর্তুগালকে হারায়। নির্ধারিত সময়ে দুই দল ১–১ গোলে সমতায় ছিল। অতিরিক্ত সময়ে ফ্রান্স পেনাল্টি পায় এবং জিনেদিন জিদান সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ফাইনালে নিয়ে যান।
২০০৬ বিশ্বকাপ: ফ্রান্স ১–০ পর্তুগাল
২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও পর্তুগাল ও ফ্রান্স মুখোমুখি হয়। ম্যাচে জিনেদিন জিদানের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে ফ্রান্স ১–০ ব্যবধানে জয় পায়। এই জয়ের ফলে ফ্রান্স বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে।
২০১৬ ইউরো ফাইনাল: পর্তুগাল ১–০ ফ্রান্স
২০১৬ সালের ইউরো ফাইনাল ছিল দুই দলের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দল গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে পর্তুগালের এদের গোল করেন এবং সেই গোলেই পর্তুগাল ১–০ ব্যবধানে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো ইউরো শিরোপা জেতে।
২০২৪ ইউরো কোয়ার্টার-ফাইনাল: ০–০, পেনাল্টিতে ফ্রান্স ৫–৩
২০২৪ সালের ৫ জুলাই হামবুর্গে ইউরো কোয়ার্টার-ফাইনালে আবার মুখোমুখি হয় পর্তুগাল ও ফ্রান্স। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচে কোনো গোল হয়নি। এরপর পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্স ৫–৩ গোলে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। ফ্রান্সের হয়ে থিও হার্নান্দেজ শেষ পেনাল্টিতে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স: গোলের পরিসংখ্যান
পর্তুগাল ও ফ্রান্স এখন পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এসব ম্যাচে ফ্রান্সের গোল ৫২টি, যেখানে পর্তুগাল করেছে ৩১ গোল। অর্থাৎ মুখোমুখি লড়াইয়ে ফ্রান্সের গোলসংখ্যা পর্তুগালের চেয়ে ২১টি বেশি।
প্রতি ম্যাচে গোলের গড় হিসাব করলে দেখা যায়
| গোলের পরিসংখ্যান | পর্তুগাল | ফ্রান্স |
|---|---|---|
| মোট গোল | ৩১ | ৫২ |
| প্রতি ম্যাচে গড় গোল | ১.০৭ | ১.৭৯ |
| গোল ব্যবধান | −২১ | +২১ |
| দুই দলের মোট গোল | ৮৩ | ৮৩ |
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্সের দীর্ঘ হেড-টু-হেড ইতিহাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও ম্যাচ রয়েছে।
প্রথমত, মোট জয়ের হিসাবে ফ্রান্স এগিয়ে। ২৯টি মুখোমুখি ম্যাচে ফ্রান্স জিতেছে ২০টি, পর্তুগাল জিতেছে ৬টি এবং ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বড় টুর্নামেন্টে দুই দলের লড়াইও উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ ইউরো ফাইনালে পর্তুগাল ১–০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৪ ইউরো কোয়ার্টার-ফাইনালে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে ০–০ ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্স ৫–৩ গোলে জয় পায়।
তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের ম্যাচটি মূল ম্যাচের ফল হিসেবে ড্র হলেও পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে ফ্রান্স সেমিফাইনালে ওঠে। তাই হেড-টু-হেড পরিসংখ্যানের ফল এবং নকআউট ম্যাচে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স: ফিফা র্যাঙ্কিং
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ও পর্তুগাল উভয় দলই আন্তর্জাতিক ফুটবলের শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের অবস্থান ৩ নম্বরে, আর পর্তুগাল রয়েছে ৭ নম্বরে। অর্থাৎ র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স পর্তুগালের চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে। দুই দলই উয়েফার অন্তর্ভুক্ত এবং নিয়মিতভাবে ইউরো ও বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
তবে ফিফা র্যাঙ্কিং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং সাম্প্রতিক ম্যাচের ফল, প্রতিযোগিতার গুরুত্ব ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ের ওপর এর অবস্থান নির্ভর করে। তাই কোনো নির্দিষ্ট সময়ের র্যাঙ্কিং ব্যবহার করলে সেই সময়কাল উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।
আরো জানুনঃফ্রান্স বনাম জার্মানি হেড টু হেড পরিসংখ্যান ও সর্বশেষ আপডেট
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স হেড টু হেড সম্পর্কে (FAQ)
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স কতবার মুখোমুখি হয়েছে?
দুই দল ২৯ বার মুখোমুখি হয়েছে।
পর্তুগাল বনাম ফ্রান্স হেড টু হেডে কে বেশি জিতেছে?
ফ্রান্স ২০টি ম্যাচ জিতেছে, আর পর্তুগাল জিতেছে ৬টি। বাকি ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
পর্তুগাল ও ফ্রান্সের সর্বশেষ ম্যাচ কবে?
সর্বশেষ ম্যাচটি হয় ৫ জুলাই ২০২৪, ইউরো কোয়ার্টার-ফাইনালে। ম্যাচটি ০-০ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ফ্রান্স ৫-৩ গোলে জয় পায়।
২০১৬ ইউরো ফাইনালে কে জিতেছিল?
২০১৬ সালের ইউরো ফাইনালে পর্তুগাল ১-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল।
২০১৬ সালের ইউরো ফাইনালে পর্তুগাল ১-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল।
২০০৬ সালের সেমিফাইনাল রয়েছে, যেখানে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতেছিল।